বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:১৪ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
সারাদেশে জরুরি ভিত্তিতে সংবাদকর্মী নেওয়া হচ্ছে ★★★ আপনার চার পাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের জানান। সত্য প্রকাশে দূর্বার পথচলা ★★★ দৈনিক ফেমাস বার্তা পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন ★★★ www.famousbarta.com. Email: dailyfamousbarta@gma­il.com ★★★ মোবাইলঃ- 01976444656, 09696444656

সিরাজগঞ্জে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ৬৭ কোটি টাকা

জনপ্রিয় সংবাদ / ২৩৮ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

 

চলতি মৌসুমী বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের ৭টি উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  এতে ছয়টি উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ২৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪৫টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ৬০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় এ সকল ক্ষতি হয়েছে।  সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢলে প্রথম পর্যায়ে যমুনা নদীতে ২৫ জুন পানি বৃদ্ধি পায়।  পর্যায়ক্রমে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী, তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার ৬০টি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করে।

 

এতে বন্যায় কোথাও ব্রিজ-কালভাটের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে বিচ্ছিন হয়ে গেছে।  আবার কোথাও ভেঙ্গে গেছে কালভার্ট।  দীর্ঘায়িত পানিতে নিমজ্জিত অধিকাংশ সড়কের বিটুমিন উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ।  এতে ৭টি উপজেলার ২৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪৫টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ৬০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় এ সকল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, চলতি বন্যায় জেলায় মোট ২৭৪ কিলোমিটারের মতো গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  এখনো সব জায়গা থেকে পানি না নামায় সম্পূর্ণ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।  তবে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।  বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে এখন পর্যন্ত সড়কগুলোতে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে মেরামত বাবদ অন্তত ৬১ কোটি টাকা লাগবে।  মেরামতের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।  বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ জানান, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় জেলার ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  এতে প্রায় ৬ কোটি টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি হয়েছে।  ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।  বরাদ্দ পেলেই বন্যার পানি সম্পুর্ণ নেমে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, জুনের শেষের দিকে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুরে বাড়তে থাকে।  ২৮ জুন উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমা অতিক্রম করে।  এরপর ৪ জুলাই থেকে আবার কমতে শুরু করে এবং ৬ জুলাই বিপৎসীমার নিচে নেমে যায়।  ৯ জুলাইয়ের পর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ১৩ জুলাই যমুনার পানি দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে।

 

টানা ২৫ দিন পর ৭ আগস্ট যমুনার পানি উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।  ১১ আগস্ট পর্যন্ত কমতে থাকলেও ১২ আগস্ট থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে।  ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসে।  তবে ২১ আগস্ট থেকে আবারও পানি কমতে শুরু করে।  টানা ১২ দিন ধরে কমার পর ০২ সেপ্টেম্বর আবারও বাড়তে থাকে।  তবে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।  বর্তমানে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভবনা নেই।  বৃষ্টিপাত কমলেই দ্রুত গতীতে পানি কমবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগ থেকে আরও খবর